কলড্রপের দায় একা নিতে চান না অপারেটররা



কলড্রপের জন্য এককভাবে দায় নিতে চান না মোবাইল অপারেটররা। এখানে সেবা দেয়ার প্রক্রিয়ার থাকা বিভিন্ন মাধ্যমকে দুষছেন তারা।অপারেটরগুলো বলছে, গ্রাহক একটি কল করার পর রিসিভারের কাছে যাওয়া পর্যন্ত তারা ছাড়াও এনটিটিএন, আইআইজি, আইসিএক্স, আইজিডব্লিউসহ অনেকগুলো পক্ষ জড়িত। অথচ তাদের সেবার মান নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা অপারেটরদের নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই কলড্রপ সমস্যার পুরো সমাধান অপারেটরদের হাতে নেই।
মঙ্গলবার টেলিকম বিটের রিপোর্টারদের সঙ্গে কোয়ালিটি অব সার্ভিস বিশেষ করে কলড্রপ নিয়ে এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন মোবাইল অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিরা।

কর্মশালায়  রবির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহেদ আলম বলেন, দেশের মোবাইল হ্যান্ডসেটের ৬০ শতাংশের বেশি নিন্মমানের যা দিয়ে ভালো সেবাও নেয়া সম্ভব নয়। অথচ এই দায়ও শেষ পর্যন্ত অপারেটদের ওপর বর্তায়।
মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের আয়োজনে এই কর্মশালায় অপারেটররা স্বীকার করেন যে, কলড্রপ নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগ বিস্তর এবং এর বেশিরভাগই মূলত মোবাইল অপারেটরদেরকে ঘিরে।তাদের দাবি, বর্তমানে দেশে ভয়েস কলেরড্রপের হার মাত্র শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ।

তারা বলছেন, মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা যতটা সোচ্চার, অন্য সব পক্ষের কোয়ালিটি অব সার্ভিসের বিষয়টি নিয়েও তারা যদি একইভাবে সোচ্চার হতেন তাহলে সমস্যা এতোটা হতো না। বাংলাদেশে তরঙ্গের উচ্চমূল্য কলড্রপ সমস্যার একটি অন্যতম কারণ। এ কারণে মোট তরঙ্গের ১৮৫ মেগাহার্টজ এখনো অব্যবহ্নত রয়ে গেছে। অথচ এই তরঙ্গ অপারেটররা পেলে গ্রাহক সেবা আরও ভালো হতে পারত।
তাদের কাছে বিটিএস স্থাপনের জায়গা পাওয়া এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রেডিয়েশন বিষয়ে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণার কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে টাওয়ার বসাতে গিয়ে স্থান পাওয়া যাচ্ছে না।

তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মিরপুর, ডিওএইচএস, বারিধারা ডিওএইচএস, কুড়িল, বনশ্রী, চট্টগ্রাম বন্দর, ডিওএইচএস, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সল্টগোলা মোড়-সারা দেশে এমন অনেক এলাকায় বিটিএস স্থাপনে অপারেটররা অনুমতি পাচ্ছে না বলেও বলেন তারা।
কর্মশালায় জানানো হয়, সাভারের রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরে অনেক গার্মেন্টস ভবনের ওপরে থাকা মোবাইল ফোন টাওয়ার অপারেটররা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে সমস্যা ঘনীভূত হয়েছে।
তারা বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কলড্রপের পরিমাণ বিটিআরসির নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে। বিটিআরসির মানদণ্ড অনুসারে, অপারেটরদের কলড্রপের হার মোট কলের দুই শতাংশের নিচে থাকার কথা। কলড্রপের হার কম হওয়ার পাশাপাশি কল সাকসেস রেটের হার ৯৯ শতাংশ। অর্থাৎ একজন গ্রাহক মোবাইলে ফোন করলে ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই তিনি কলটি সফলভাবে করতে পারেন।অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাদাত হোসেন এবং বাংলালিংকের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমানও বক্তৃতা করেন।

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates