দৈহিক আকৃতি পেয়েছে বন্ধু রোবট



বাংলাদেশের প্রথম দ্বিভাষিক রোবট ‘বন্ধু’ তার তৃতীয় সংস্করণে দৈহিক আকৃতি পেয়েছে। শরীরের উপরের অংশকে মানুষের মতো করে আকৃতি দেয়া হয়েছে। মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক কাজের অংশ হিসেবে হাত নাড়ানো, হ্যান্ডশেক করার মতো প্রভৃতি কাজ করতে পারছে। মানুষের অঙ্গ-ভঙ্গি অনুকরণ করতে পারছে। কোনো পণ্য হাত দিয়ে ধরতে পারে। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে টিচিং অ্যাসিসটেন্ট এবং যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ারে সেলস পারসন হিসেবেও কাজ করতে পারে।

বন্ধু রোবটের প্রতিষ্ঠাতা নাজমুস সাকিব জানান, ‘প্রযুক্তিক্ষেত্রেআর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের মে মাসে ‘বন্ধু’ রোবট বানানোর সিদ্ধান্ত নিই। সাধারণত সবাই রোবটকে শত্রু মনে করে। আমরা বন্ধু রোবটকে মানুষের সহযোগী বানানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি। প্রথম সংস্করণে বাংলা এবং ইংরেজিতে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারত ‘বন্ধু’। দ্বিতীয় সংস্করণে ইংরেজিতে বাক্যগঠন, ইন্টারনেটের সাহায্যে কোনো বিষয় সার্চ করা এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়ায় কিছু ফিচার যোগ করা হয়। স্টার্টআপ বাংলাদেশের সহযোগিতায় তৃতীয় সংস্করণে আমরা দারুন সব ফিচার যোগ করেছি।’

বন্ধু রোবট তৈরিতে নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সার্বক্ষণিক ক্লাউড সার্ভার ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া চলাচল করার জন্য সার্ভো ও অ্যাকটুয়েটরস রয়েছে। বন্ধু মানুষের কথা শুনে তার তথ্যভাণ্ডার চেক করে দেখে এটা কোন ধরনের প্রশ্ন। তারপর সে অনুযায়ী উত্তর তৈরি করে। অনেক সময় তার কিছু জানা না থাকলে সে নিজেই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে জেনে নেয় এবং তার মেমোরিতে সংরক্ষণ করে যেন পরেরবার তা আর খুঁজতে না হয়।

বন্ধু রোবট তৈরিতে কাজ করছে উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া নাজমুস সাকিবের নেতৃত্বাধীন ইন্টভিল লিমিটেড। তৃতীয় সংস্করণ নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অর্থায়ন করেছে স্টার্টআপ বাংলাদেশ।

সোর্স: রাইজিংবিডি

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates