মহাবিশ্বে তারার আলোর পরিমাণ বের করেছেন বিজ্ঞানীরা



মহাবিশ্বে নক্ষত্র বা তারারা এখন পর্যন্ত কি পরিমাণ আলো উৎপন্ন করেছে, প্রথমবারের মতো সেই হিসাব করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এবং সেই পরিমাণ এতটাই বেশি যে, তা মহাবিশ্বের অনেক গভীর রহস্যকেও আলোকিত করে ফেলতে পারবে।

প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর আগে যখন মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল, ঠিক তখন থেকেই নক্ষত্র অর্থাৎ তারাদের উৎপত্তি। মহাবিশ্বের দুই ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সিতে তারার সংখ্যা ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন।

এই প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা বের করতে পেরেছেন নক্ষত্র বা তারা ঠিক কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিগত সময় ধরে ঠিক কতখানি আলো উৎপন্ন হয়েছে তারাগুলো থেকে। বিজ্ঞানীদের এই গণনায় মূল ভূমিকা রাখে নাসার একটি বিশেষ ধরনের টেলিস্কোপ। ‘ফেরমি গামা-রে স্পেস টেলিস্কোপ’ নামক এই দূরবীক্ষণ যন্ত্রটি, মহাবিশ্বের উৎপন্ন সকল আলো সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের সঠিক ধারণা এনে দেয়।

এই গবেষণার অন্যতম প্রধান জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী মার্কো এজেল্লো বলেন, ‘ফেরমি টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য দিয়েই আমরা এই প্রথমবারের মতো পরিমাপ করতে সক্ষম হয়েছি এখন পর্যন্ত নক্ষত্রের থেকে নির্গত মোট আলোর পরিমাণ।’ তিনি আরো বলেন ‘তারাদের থেকে উৎপন্ন বেশিরভাগ আলোই মহাকাশে থেকে যায়। আর এই ব্যাপারটাই নক্ষত্রদের বিবর্তন এবং সেখান থেকে উৎপন্ন আলো সম্পর্কে জানতে এবং পরিপূর্ণভাবে বুঝতে আমাদের সাহায্য করেছে।’

আর এই পরিমাপের মাধ্যমেই বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন ঠিক কি পরিমাণ আলোককণা ইতোপূর্বে বিকিরণ হয়েছে। তবে সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন ব্যাপারটা একটু কঠিনই বটে। কেননা আলোককণা বিকিরণের সংখ্যাটি এতই বড় যে, বিশাল আকারের এই সংখ্যাটি একসঙ্গে লিখতেও অনেক বেগ পেতে হয়েছে তাদের। ‘চার’ এর পর পঁচাশিটি শূন্য লিখতে হয়েছে।

নক্ষত্র অর্থাৎ তারাদের থেকে এই বিশাল সংখ্যক আলো উৎপন্ন হওয়ার পরেও, খুব সামান্য আলোই আমরা এই পৃথিবী থেকে মহাকাশের দিকে তাকালে দেখতে পাই। মহাকাশের এই উজ্জ্বলতার দিকে তাকালে, সেই আলো যখন আমাদের কাছে পৌঁছে সেটার পরিমাণ ঠিক এমন যে, আমরা যেন আড়াই মাইল দূর থেকে ষাট ওয়াটের একটি বাতির দিকে তাকিয়ে আছি।

এই অনুজ্জ্বলতার কারণ হল দূরত্ব। মহাকাশের নক্ষত্ররা আমাদের থেকে এতই দূরে অবস্থিত যে সেই আলো আমাদের ঘূর্ণায়মান পৃথিবীতে প্রতিফলিত হয় না। তবে ‘ফেরমি টেলিস্কোপ’ এই গবেষণার ক্ষেত্রে, তারা থেকে পৃথিবীতে প্রতিফলিত হওয়া সামান্য পরিমাণ ক্ষুদ্র আলোর মাধ্যমেও এটা বুঝতে সাহায্য করেছে যে ঠিক কতখানি আলো সেখানে বিদ্যমান এবং কতখানি আলো এ পর্যন্ত উৎপন্ন হয়েছে।

এই নতুন আবিষ্কার মহাবিশ্বের সৃষ্টি পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতেও বিজ্ঞানীদের সুযোগ করে দিয়েছে। এ সম্পর্কে বিজ্ঞানী এজেল্লো বলেন, ‘মহাবিশ্বের প্রথম বিলিয়ন বছরের ইতিহাস খুবই আকর্ষণীয়, বর্তমানের উন্নত স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও আমরা এই বিষয়ে গবেষণা করতে পারিনা।’ এছাড়া তিনি আরো বলেন, ‘এই গবেষণা আমাদের মহাবিশ্ব সৃষ্টিলগ্ন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। হয়ত একদিন আমরা ‘বিগ ব্যাং’ রহস্যও ভেদ করে ফেলব এবং সেটাই এখন আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।’

তথ্যসূত্র : ইন্ডিপেন্ডেন্ট

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates