মানুষ বসবাস করবে স্মার্টবাড়িতে?



প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে মানুষ। আর প্রযুক্তিই দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে করে তুলছে সহজ ও সুন্দর।তাই বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, শুধু বাইরের জগতই নয়, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মানুষের ঘর-গৃহস্থালিতেও পরিবর্তন আসবে। মানুষ বসবাস করবে স্মার্টবাড়িতে। সেই বাড়ি আশ্রয় দেবার পাশাপাশি সমস্ত প্রয়োজনও মেটাবে।যুক্তরাষ্ট্রের ওহিওর কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্সের দুই সহকারী অধ্যাপক সৌম্যজিৎ মণ্ডল ও মিং চুন হায়াং ভবিষ্যতের স্মার্টবাড়ি কেমন হবে তা জানিয়েছেন।গত মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে তারা একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।তাদের স্মার্টবাড়িতে থাকবে সংবেদনশীল দেয়াল। ঘর থেকে বের হবেন, লাইট-ফ্যান বন্ধ করতে সুইচ টিপতে হবে না। আপনা-আপনিই তা বন্ধ হবে। দেয়ালেরও থাকবে কান, শুনতে পারবে নিশ্বাসের শব্দ পর্যন্ত। এক কথায় মনের কথা পড়তে পারবে স্মার্টবাড়ি!সংবেদনশীল দেয়ালদুই বিজ্ঞানী নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন, যা বাড়ির দেয়ালকে করে তুলবে সংবেদনশীল। তাই মুখ দিয়ে কোনো কথা বলার প্রয়োজন হবে না। দেয়ালই বুঝে নেবে ঘরের কোন পরিস্থিতি আপনার জন্য উত্তম।


বিষয়টা অনেকটা এমন, শুতে যাবার সময় কষ্ট করে আর লাইট, ফ্যান অফ কিংবা অন করার প্রয়োজন পরবে না। সংবেদনশীল দেয়ালই বুঝে নেবে ঘুম বা আরামের জন্য ঘরের পরিবেশ কেমন হওয়া দরকার।দেয়ালেরও থাকবে কাননতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরের দেয়াল সত্যিকার অর্থেই জীবন্ত হয়ে উঠবে। যে কোনো কম্পন বা শব্দ শনাক্ত তো করতে পারবেই, একইসঙ্গে ইচ্ছেমতো সেই দেয়াল নাড়ানোও যাবে।অধ্যাপক সৌম্যজিৎ মণ্ডল বলেন, ভবিষ্যতে ৬০ হার্টসের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র আমাদের ঘিরে থাকবে। তবে মানুষ যেহেতু বিদ্যুৎ পরিবাহী, তাই এর মাত্রা থাকবে অত্যন্ত কম। সেই বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের মাধ্যমেই দেয়াল নাড়াচাড়া করা যাবে।



আবার এর মাধ্যমেই স্মার্ট দেয়াল নিশ্বাস থেকে শুরু করে যে কোনো শব্দ শনাক্ত করতে পারবে বলেও জানান তিনি।কানের ইন্টারনেটমিং চুন হায়াং বলেন, এমন একটি ভবন তৈরির চেষ্টা করছি, যা মানুষের মনের কথা পড়তে পারবে। এ ক্ষেত্রে শব্দ শোনা ও সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের কানে যে ধরনের প্রক্রিয়া ঘটে তা অনুসরণের চেষ্টা চলছে। যাতে ভবনটি মানুষের মনের ভাবনা পড়ে তাতে সাড়া দিতে পারে। তাই একে আমরা বলছি কানের ইন্টারনেট।গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্নস্মার্টবাড়ি ঘিরে এতসব সংবেদনশীল প্রযুক্তির কারণে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।তবে সৌম্যজিৎ মন্ডল জানান, স্মার্টবাড়িতে কোনোভাবেই মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট হবে না। কারণ কোনো ক্যামেরার ব্যবহার থাকবে না। ছোট ছোট চিপের মাধ্যমে এটি শুধু ঘরের বাসিন্দাদের কণ্ঠস্বরই শনাক্ত করতে পারবে।মিং চুন হায়াং বলেন, আমরা এখনও এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রযুক্তিটি হাতে চলে এলে মানুষ অনেক উপকৃত হবে। বিশেষ করে ভবনকে আলোকিত, উষ্ণ ও শীতল করে তুলতে তা অনেক কাজে দেবে।তিনি উল্লেখ করেন, কম শক্তি খরচ করে একজন মানুষ এক ঘর থেকে কীভাবে অন্য ঘরে যাবে এই প্রযুক্তি তাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করবে।ইতোমধ্যে দুই বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলোর কিছুটা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া, ওহিওর ব্রিকএনরিজ গ্রামে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্ট লিভিং ল্যাব গড়ে তোলারও প্রক্রিয়া চলছে।তথ্য সুত্র: টেকশহর

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates