ভুয়া সংবাদ বানাচ্ছে ফেইসবুক নিজেই!



ভুয়া সংবাদে পাল্টে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ফল। এর পেছনে রাশিয়ার সঙ্গে জড়িয়েছে ফেইসবুকের নামও। এ নিয়ে তোলপাড় এখনও থামেনি। এরই মধ্যে খবর বেরিয়েছে ভুয়া খবর তৈরি করছে খোদ ফেইসবুক।শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির বিরুদ্ধে ভুয়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর তৈরি এবং সংবাদ মাধ্যমে তা প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ফেইসবুক তার সমালোচকদের বিরুদ্ধে ভুয়া ও উদ্দেশ্যমূলক খবর তৈরি করে সেটি ছাপার ব্যবস্থা করেছে।

ফেইসবুক বিরোধী আন্দোলন ‘ফ্রিডম ফ্রম ফেইসবুক’ এবং জর্জ সরোসকে কেন্দ্র করে এ বিতর্ক। মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠানটি মনে করতো আন্দোলনটির পেছনে বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারী জর্জ সরোসের অর্থায়ন রয়েছে।এ জন্য ফেইসবুক তাদের পিআর এজেন্সি ‘ডিফাইনার্স’ দিয়ে নানান ধরনের খবর তৈরি করে সেগুলো এনটিকে নেটওয়ার্কে প্রকাশের ব্যবস্থা করছে।যদিও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আন্দোলনের পেছনে মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেভিড মরগান অর্থায়ন করেন। বিষয়টিতে নিন্দা প্রকাশ করেন জর্জ সরোস।

ফেইসবুক ডিফাইনার্সকে টাকা দিয়ে উদ্দেশ্যমূলক কাজ করানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে। যদিও নিউ ইয়র্ক টাইমসের তদন্তে ডিফাইনার্স ও এনটিকে নেটওয়ার্কের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন ‘জানতেন না’ বলে। এসব কিছু তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন পড়ে জেনেছেন বলে বিবিসিকে জানান।  তিনি আরও বলেন, এমন সিদ্ধান্ত ‘কমিউনিকেশন বিভাগের কারও’ হতে পারে।

এ বিতর্ক থেকে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কে চালাচ্ছে ফেইসবুক? সম্প্রতি প্রায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে জাকারবার্গের নীরবতা স্পষ্ট ছিল।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলমানদের নিষিদ্ধ করা নিয়ে ধর্মবিদ্বেষী মন্তব্য যখন ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়াচ্ছিল তখনও জাকারবার্গ নিরব ছিলেন।ডেটা শেয়ারিং বিতর্কের সময়েও জাকারবার্গ নীরব ভূমিক পালন করেন। মার্কিন নির্বাচনের রাশিয়ার অনধিকারচর্চার তথ্য কতখানি প্রকাশ্যে জানানো হবে সে বিষয়েও আলোচনায় অংশ নেননি তিনি।


জাকারবার্গ সিনেটের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে ভুয়া নিউজের বিরুদ্ধে তার অসহনশীলতার কথা বলেন।ইতিমধ্যে তিনি নিউজ ফিডের অ্যালগরিদমে পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।সেই সঙ্গে একটি স্বাধীন বিভাগ তৈরি করার কথা বলেছেন। এ বিভাগ যেসব পোস্টকে ফেলে দেওয়া হয়েছে সেগুলোর পুনঃবিচনার আবেদন তদন্ত করবে। প্রতি তিন মাস পর পর কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভেঙ্গেছে এমন পোস্টের পরিমাণের প্রতিবেদন দাখিল করবে।এদিকে ফেইসবুকের বিদায়ী নিরাপত্তা প্রধান অ্যালেক্স স্টামস বলেন, প্রথম যখন তিনি ভুয়া সংবাদের বিষয়ে ফেইসবুক প্রতিষ্ঠাতাকে জানান তখন জাকারবার্গ বিষয়টিকে কানেই তোলেননি। তিনি এ বিষয়ে তার জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অ্যালেক্স অনেক আগে যখন এ বিষয়ে সতর্ক করেন তখন জাকারবার্গ এটিকে ‘উদ্ভট কথাবার্তা’ আখ্যা দেন।তদন্তের আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। যদিও অ্যালেক্স ও ফেইসবুক উভয়ের তরফ থেকেই বলা হয়ছে তার কাজে কখনও বাধা দেওয়া হয়নি।এসব বিষয় সামনে এলে প্রশ্ন উঠেছে জাকারবার্গ কী একাধারে চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর পদের চাপ নিতে পারছেন না?প্রধান নির্বাহীর পদটি কি অন্য কাউকে ছেড়ে দেওয়া উচিত? যদিও জাকারবার্গ মনে করেন, এমন প্রস্তাব কোনও সমাধান নয়। তথ্য সুত্র: টেকশহর



Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates