
ভারত ভিয়েতনামের জায়গা দখল করেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন নির্মাতা হিসাবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বিশ্বের দরবারে।
সিংহাসন দখলের পর নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন ভারতবর্ষ হয়ে উঠবে ডিজিটাল ইন্ডিয়া। পাশাপাশি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ গড়ে তোলার প্রত্যাশা দিয়েছিলেন তিনি। তা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? বুধবার এ প্রশ্নের উত্তর দিল ভারতীয় সেলুলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স এসোসিয়েশন (আইসিইএ)। ভারতে তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ে তোলার অন্যান্য সরঞ্জাম। গত সাড়ে চার বছরে ২৬৮ টি মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরি ইউনিট চালু হয়েছে। ৬.৭ লক্ষের বেশি মানুষ চাকরি পেয়েছেন।
“খুব ভাল পরিস্থিতি। অ্যাপেল, স্যামসাং, এলজি, ওপো এবং ভিভোর মতো সুপরিচিত সংস্থাগুলির ফোন ভারতে উৎপাদন হওয়া শুরু হবে বা কিছু ক্ষেত্রে হয়েছে। আমরা সবাই জানি এরই মাঝে অনেক ফোন ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে ভারতবর্ষে,” সাংবাদিকদের জানান ICEA-র জাতীয় সভাপতি পঙ্কজ মহিন্দ্র। এছাড়াও ভারতে আরও বেশ কয়েকটি মোবাইল কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে গত কয়েকমাসে। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি মোবাইল কারখানা তৈরি হবে বলে আশ্বাস মেলে।
ICEA এর সরেজমিন সমীক্ষা অনুসারে, দিল্লী-এনসিআর অঞ্চলে প্রায় ৩০ টি মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদন ইউনিট তৈরি করা রয়েছে, এরপরে উত্তর প্রদেশে ২৭ টি, হরিয়ানায় ১৫ টি, মহারাষ্ট্রে ১৪ টি এবং উত্তরাখণ্ডে ৯ টি। দিল্লি-এনসিআরে ১৮ টি উত্তর প্রদেশে ১৪ টি, হরিয়ানায় ১৩ টি , হিমাচল প্রদেশে ৭ টি এবং মহারাষ্ট্রে ৪ টি ব্যাটারি তৈরির কারখানাও তৈরি হয়েছে। সমীক্ষায় এও বলা আছে যে চার্জার / অ্যাডাপ্টারের জন্য দেশে ৩৯ টি কারখানা রয়েছে।
ক্রমবর্ধমান মোবাইল উৎপাদন কার্যক্রমে আমদানি কম হওয়ার কারণে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষিত হয়েছে, জানান মহিন্দ্র। তিনি আরও বলেন, যে হারে মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং আরও সরঞ্জাম ভারতে উৎপাদন করা শুরু হয়েছে, তাতে ২০১৭-১৮ সালে মোট ২২৫ মিলিয়ান হ্যান্ডসেট তৈরি হয়েছে।
এর ফলে ভারত সম্প্রতি ভিয়েতনামের জায়গা দখল করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন নির্মাতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিশ্বের দরবারে। আইসিইএ আশা করছে, ২০২৫ সালের মধ্যে মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং আনুষঙ্গিক বস্তু উৎপাদন ইউনিটের মোট সংখ্যা ১৮০০ ছাড়িয়ে যাবে, এবং ভারতে আরও ৫০ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে।
তবে ভারতে মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং সেগুলির উপাদান উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে মহিন্দ্রা আরও বলেন যে এখনো অনেকগুলি চ্যালেঞ্জ রয়েছে সামনে। “কর্পোরেট ট্যাক্স শাসনের অভাবে মোবাইল শিল্প গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন আজ। সরকারকে এই চ্যালেঞ্জগুলির উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে,” বলেন তিনি। Source: indianexpress
Post a Comment