একবারে অনেক এলাকা নেটওয়ার্কে এনে ফোরজি চালু করছে টেলিটক



একবারে অনেক এলাকা নেটওয়ার্কে এনে ফোরজি চালু করছে টেলিটক।এতে হয়ত ‘প্রতিন্দ্বন্দ্বীদের’ সঙ্গে ফোরজি দৌড়ে পিছিয়ে থাকার দূরত্ব কিছুটা ঘুচবে বলে মনে করছে অপারেটরটি।ফোরজি লাইসেন্স নেয়ার প্রায় নয় মাস পর অপারেটরটি রাজধানী ঢাকা এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়াসহ কিছু এলাকায় চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।জাতীয় সংসদের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বৈঠকে অপারেটরটি জানিয়েছে, সব মিলে শুরুতে প্রায় সাড়ে পাঁচশ টাওয়ারকে তারা ফোরজি ব্যবহারের উপযোগী করছে, আরও পাঁচশ টাওয়ারকেও খুব তাড়াতাড়ি ফোরজি সেবা দেওয়ার উপযোগী করার কাজ চলছে।সেপ্টেম্বর মাসে সবার আগে রাজধানীর ধানমণ্ডিকে ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় আনে অপারেটরটি। তারপর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়ও আধুনিক এই নেটওয়ার্ক দেয়া হয়। টেলিটকের নিজস্ব তহবিলের ৯৮৭ কোটি টাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে কমিটিকে জানায় টেলিটক।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, অপারেটরটির থ্রিজি সম্প্রসারণের প্রকল্পটিকে ফোরজি সম্প্রসারণে রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে টেলিটক কার্যকরভাবে ফোরজি নেটওয়ার্কের জন্য তৈরি হতে পারছে।  ‘‘বেসরকারি ৪০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের কোম্পানির সঙ্গে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের কোম্পানি টেলিটকের দৌড়টা তো কঠিন। তবে সেবার মানে সাধারণ মানুষের এখনও টেলিটকের প্রতি আস্থা রয়েছে। গত নয় মাসে টেলিটককে নতুন করে সাজানো হয়েছে। থমকে থাকা অনেক প্রকল্পে গতি আনা হয়েছে, অর্থ  দেয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক তৈরির জন্যও অর্থ দেয়া হয়েছে।’-বলছিলেন মন্ত্রী।



টেলিটকে এখন পাঁচটি পৃথক প্রকল্পে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। যেখানে নতুন টাওয়ার তৈরি ও থ্রিজি, ফোরজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ অন্যতম।টেলিটকের রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট রিলেশনের ডিজিএম মো. সাইফুর রহমান টেকশহরডটকমকে জানান, ফোরজির জন্য টাওয়ার ইন্সটলেশনের কাজ চলছে। যন্ত্রপাতি আসার প্রক্রিয়ার রয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।এর আগে অন্য তিন বেসরকারি অপারেটরের সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে ফোরজির লাইসেন্স নিলেও এতদিন টেলিটক তাদের সেবা চালু করতে পারেনি। তবে  বেসরকারি অপারেটরগুলো লাইসেন্স নেওয়ার পরপরই সেবাটি চালু করে দেয় এবং এ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ফোরজি গ্রাহক তারা সংগ্রহ করেছে।
যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী বেসরকারি অপারেটরগুলোর চেয়ে প্রায় এক বছর আগে ২০১২ সালের আগস্টে থ্রিজি চালু করার সুযোগ পেয়েছিল টেলিটক। আর সে কারণে তখন অন্যদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও শুরু করেছিল তারা।
কিন্তু ধারাবাহিকভাবে পেছাতে পেছাতে অপারেটরটি এখন অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। বর্তমানে অপারেটটিরতে প্রায় ৪০ লাখ কার্যকর সংযোগ আছে।
সংসদীয় কমিটিকে টেলিটক জানিয়েছে, এখন তাদের মাত্র চার হাজার টাওয়ার থাকলেও তারা আরও কিছু প্রকল্প নিয়েছেন যার মাধ্যমে তাদের নেটয়ার্কের পরিধি বাড়বে।

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates