
নিজেদের কনটেন্ট ছাড়া ইন্টারনেট দুনিয়ায় দেশকে তুলে ধরার কোন উপায় নেই। মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করে তা ছড়িয়ে দিতে পারলেই ইন্টারনেটে নিজেদের ভীত মজবুত করা সম্ভব হবে।‘বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম ২০১৮’ আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনায় এমন কথা বলেন বক্তারা।বক্তারা বলেন, মানুষ কেন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, তার চাহিদা কী সেটা আগে খুঁজে বের করতে হবে। তারপর সে অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। তবেই এই সফলতা আসবে। বাংলাদেশ ইন্টারনেটের বড় বাজার এবং এমন বাজারে বিদেশী বিনিয়োগ আসতে বাধ্য। তবে তার আগে নিজেদের সঠিক জায়গায় নিতে হবে।মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সিরডাপ মিলনায়তনে দিনব্যাপী ওই আয়োজন শুরু হয়। উদ্বোধনী আয়োজনের পর আরও তিনটি সেশনে আলোচনা অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের চেয়ারম্যান আকরাম এইচ চৌধুরী বলেন, ইন্টারনেটকে আমরা ব্যবহার করেছি কৃষিতে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে আমরা বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। তবে সেগুলোতে চ্যালেঞ্জ ছিল। বাংলা ভাষায় আরও কনটেন্ট তৈরি করতে পারলে সবক্ষেত্রে সাধারণের জন্যও তা ব্যবহার সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত থাকতে পারেননি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিভি, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, ইন্টারনেটকে ছাড়া যেহেতু আমরা কোন কিছুই কল্পনা করতে পারছি না, তাই এর নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। ইউরোপে ডেটার নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর আইন হচ্ছে। দেশেও সেসব নিয়ে ভাববার সময় এসেছে।তিনি ভাষার বাধা কাটিয়ে উঠে নিজেদের ভাষায় কনটেন্ট তৈরির আহবান জানান। এতে আইজেএফ বড় ভূমিকার রাখতে পারে বলে মত দেন তিনি।সাউথ এশিয়া আর্টিকেল১৯ এর আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফাইসাল বলেন, ইন্টারনেটকে কোনভাবেই শুধু নিয়মনীতির বেড়াজালে বন্দি করে কঠোর করলে হবে না। তাহলে বিশ্বে নিজেদের নামে কিছু করতে গেলে পা পিছলে পড়তে হবে।ইন্টারনেট প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়ছে এটা আশার কথা। কিন্তু আমরা এর কতটা প্রোডাক্টিভ কাজে লাগাতে পারছি সেটা দেখতে হবে।
ট্রান্সমিশন খরচের জন্য প্রত্যন্ত এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছাতে শহরের চেয়ে কয়েকগুণ খরচ হয়। তাই তারাও কমদামে সেটি পায় না। এদিকে সরকারকে নজর দেবার আহবান জানান তিনি।বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মহাপরিচালক (ইঅ্যান্ডও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা কামাল তার বক্তব্যে বলেন, আমরা ইন্টারনেটে বাংলা ভাষা নিয়ে অনেকটাই যুদ্ধ করেছি। সেখানে সফল হয়েছি। এখন অন্য ধরনের যুদ্ধ করতে হবে। সেটা মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির।তিনি বলেন, গ্রামে যেভাবে স্যাটেলাইট টিভির সংযোগ দেয়া হয়, সেই মডেলে আমরা ব্রডব্যান্ড সংযোগ দিতে পারি। সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। তবে তার আগে দরকার নিজেদের কনটেন্ট।তবে একেবারেই ইন্টারনেটকে ছেড়ে দেবার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, এর যেমন ভালো দিক আছে ঠিক বিপরীতটাও আছে। তাই আমরা ইন্টারনেটকে একেবারেই ছেড়ে দিতে পারি না। তার অর্থ এই নয়, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবহারে ‘ব্যারিয়ার’ দিচ্ছি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউএন ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মাদ আবদুল হক অনু।আগামী ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর ফ্রান্সে বসছে ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের মূল আয়োজন। সেখানে বাংলাদেশ থেকেই সংগঠনটির প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
Post a Comment