
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আমাদের সৌরজগতের একটি নতুন বামন গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন- এবং এটি আমাদের সৌরজগতে এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে দূরবর্তী বস্তু।
‘আমি বললাম, এত্ত দূরে! যখন এটিকে আমি আবিষ্কার করেছিলাম এবং এটি খুব দূরবর্তী একটি বস্তু।’ নিউ সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিনকে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্কট শেফার্ড।
ছোট এই গ্রহটির নাম ‘২০১৮ ভিজি১৮’। আবিষ্কারক জ্যোতির্বিজ্ঞানী দল পরবর্তীতে এটির ডাকনাম দিয়েছেন ‘ফারআউট’। এই বামন গ্রহটি সূর্য থেকে প্লুটোর তুলনায় প্রায় ৪ গুণ দূরে অবস্থিত, প্রায় ১৮ বিলিয়ন কিলোমিটার (১১.২ বিলিয়ন মাইল) দূরত্বে অবস্থিত।
পৃথিবী এবং সূর্যের মধ্যেকার দূরত্বের তুলনায় এটি ১০০গুণেরও বেশি দূরে অবস্থিত এবং ভায়েজার-২ এর প্রায় সমান দূরত্বে অবস্থিত। ভায়েজার-২ হচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একটি স্পেস প্রোব, যা ১৯৭৭ সালে মহাশূন্যে প্রেরণ করা হয় সৌরজগতের বাইরের পরিবেশ সম্পর্কে জানার জন্য। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রায় ১১ বিলিয়ন মাইল পথ পাড়ি অবশেষে চলতি মাসে ভায়েজার-২ ইন্টারস্টেলার স্পেসে প্রবেশ করেছে।
কার্নেগি ইনস্টিটিউশন ফর সায়েন্সের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, হাওয়াইতে অবস্থিত জাপানি সুবারু টেলিস্কোপের মাধ্যমে শেপার্ড এবং তার সহকর্মীরা ‘ফারআউট’ বামন গ্রহটি আবিষ্কার করেছেন।
অনেক দূরে হওয়ায় ‘ফারআউট’ এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে গভীর রহস্যময়। কিন্তু বামন গ্রহটির একটি বিষয় ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং সেটি হচ্ছে, এর অস্বাভাবিক কক্ষপথ। গ্রহটি অন্যান্য ট্রান্স-নেপচুনিয়ান বস্তুগুলোর মতো অস্বাভাবিক অ্যাঙ্গেলে আবর্তিত হয়।
এ ধরনের অস্বাভাবিক আবর্তণের কারণ কি হতে পারে, তা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকগুলো কারণ ধারণা করা হয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যাখ্যাগুলোর একটি হচ্ছে, সৌরজগতে নবম গ্রহ বা প্ল্যানেট এক্স-এর সম্ভাব্য অস্তিত্ব। এমনকি বিজ্ঞানীরা নবম গ্রহের অস্তিত্বের অনুসন্ধান করতে গিয়েই এই ‘ফারআউট’ বামন গ্রহটির দেখা পেয়েছেন।

অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা, ওই মহাকর্ষীয় স্থানটিতে গ্রহের গ্রুপ থাকতে পারে। কিন্তু নবম গ্রহের অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা পেতে অন্তত ‘ফারআউট’ এর বিস্তারিত কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। গ্রহটির ব্যাস আনুমানিক ৫০০ কিলোমিটার (৩১০ মাইল) এবং সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ১০০০ হাজারের বেশি সময় লাগতে পারে। এছাড়া গ্রহটি গোলাপী রঙের বলে জানানো হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে।
নর্দান অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী চাঁদ ট্রুজিলো বলেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম কিছু টেলিস্কোপের নতুন ক্যামেরা প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা অবশেষে আমাদের সৌরজগতে প্লুটোর চেয়ে দূরে দৃষ্টি রাখতে পারছি।’
নতুন আবিষ্কারে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, বিজ্ঞানীরা যেখানে এখন নিয়মিতভাবে সৌরজগতের বাইরের অন্যান্য নক্ষত্রগুলোর গ্রহ আবিষ্কারে কাজ করছেন, সেখানে আমাদের নিজস্ব সৌরজগতেই এখনো গ্রহ-আকৃতির অনাবিষ্কৃত বস্তু রয়েছে। যা দ্বারা বোঝা যায় যে, আমাদের গ্যালাক্সির অপেক্ষাকৃত ছোট কর্ণারে আরো অনেক কিছু সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।
তথ্যসূত্র : সায়েন্স অ্যালার্ট
Post a Comment