রকেটের জ্বালানি তৈরি হবে মঙ্গলের মাটি থেকে




মহাকাশ সংস্থা নাসা এমন এক ধরনের রোবট তৈরি করছে যা মঙ্গলগ্রহের ভূপৃষ্ঠে রকেটের জ্বালানি তৈরি করতে পারবে। এক্ষেত্রে মঙ্গলের মাটি খুঁড়ে মাটি থেকে পানি আলাদা করবে এই রোবট। এরপর সেটিকে মিথেন গ্যাসে রূপান্তর করবে। ভবিষ্যতে এই মিথেন গ্যাসই হবে রকেটের জ্বালানী।

মিথেন গ্যাসকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে তাতে জ্বালানী সহ কম ওজনের রকেট মহাকাশে পাঠাতে পারবে নাসা। বেশি ওজনের রকেট নিয়ে এতোদিন ধরে সমস্যায় আছেন বিজ্ঞানীরা। নাসা আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে মঙ্গলগ্রহে মানুষ সহ মহাকাশযান পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে গ্রহটিতে মানুষ বসবাসের উপযোগী কি না, তা যাচাইয়ের লক্ষ্যে  মানুষ পাঠানোর আগে মঙ্গলগ্রহে বেশ কয়েকটি মানুষবিহীন মহাকাশযান পাঠানো হবে।

সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলে যে রোবট পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে নাসা, তার নাম ‘ডাস্ট টু থ্রাস্ট ফ্যাক্টরিজ’। সংস্থাটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কার্ট লিউচ ও তার দল এই রোবট তৈরি করেছেন। রোবটটি বিশেষ এক পদ্ধতিতে মঙ্গল গ্রহের মাটি খুঁড়ে মাটি থেকে পানি আলাদা করবে। এরপর ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় পানির অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন আলাদা করা হবে। এরপর হাউড্রোজেনের সঙ্গে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে থাকা কার্বন মিশিয়ে তৈরি করা হবে মিথেন গ্যাস। আর এই মিথেন গ্যাসই ভবিষ্যতে রকেটের জ্বালানী হবে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে রকেটের জ্বালানী হিসেবে তরল হাইড্রোজেন ব্যবহার করা হয়। তবে এর চেয়ে মিথেন উত্তম ও সে গ্যাস ছোট ট্যাংকের মধ্যেও সংরক্ষণ করা যায়। ২০৩০ সালের দিকে মানুষ সহ মহাকাশযান মঙ্গলের মাটিতে অবতরণের পর যখন আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে, তখন এই প্রক্রিয়ায়  জ্বালানী হিসেবে মিথেন গ্যাস তৈরি করেই ফিরবে বলছেন বিজ্ঞানীরা।

এদিকে, নাসার বেশ কিছু মহাকাশযান ‘স্পিরিট’ , ‘অপরচুনিটি’ ও ‘কিউরোসিটি’ এরই মাঝে মঙ্গলে গবেষণা চালিয়েছে। এবার ‘ইনসাইট’ নামের মহাকাশযান মঙ্গলে অবতরণ করতে চলেছে চলতি মাসেরই ২৬ তারিখে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates