ভয়েস ডেটা খেয়ে ফেলছে বাংলালিংকে !



দেশে সব অপারেটররেই ডেটার ব্যবহার বাড়ছে।কিন্তু গ্রাহক সংখ্যায় দেশের তৃতীয় সেরা অপারেটরটির কথা কমছে আর ডেটার ব্যবহার বাড়ছে। বেশ কিছু দিন হতে কেবল বাংলালিংকেই এমনটা ঘটছে।
গত জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসের যে আর্থিক প্রতিবেদন বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিয়ন প্রকাশ করেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডেটা নিয়ে ছুটছে আর ছুটছে বাংলালিংক। হয়তো সে কারণেই তাদের ভয়েস কলের পরিমাণ কমে যাচ্ছে । আবার ডেটা থেকে তারা যে খুব বেশী আয়ও করছেন তেমনটি নয়।আয়ের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বছরের এই তিন মাসে এবার তারা ডেটা খাতে আয় করেছেন মাত্র একশ নব্বই কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল একশ ৭০ কোটি। কিন্তু মাত্র একটি প্রান্তিক আগে অর্থাৎ এপ্রিল-জুনে এটি ছিল একশ আশি কোটি টাকা।সেই তুলনায় গ্রাহক প্রতি মাসে ডেটার ব্যবহার কিন্তু হরদম বাড়ছে। বিশেষ করে ফোরজি চালু হওয়ার পর থেকে তো কোনো কথাই নেই।

এখন বাংলালিংকের একেকজন ডেটার গ্রাহক মাসে গড়ে খরচ করছেন ৭৩৪ এমবি ডেটা। মাত্র এক বছর আগেও এটি ছিল ৫২৩ এমবি।চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রাহক প্রতি মাসে ভয়েস কল হয়েছে ২৫৫ মিনিট। কিন্তু এক বছর আগেও এটি ছিল ২৮০ মিনিট।তুলনাটা আরেকটু পেছন থেকে হলে আরও বড় পার্থক্য পাওয়া যাবে। ২০১৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলালিংকে একেকজন গ্রাহক ৩০৫ মিনিট কথা বলেছেন। আর সেখানে মাসে একেকজন ইন্টারনেট গ্রাহক ডেটা খরচ করতেন ৩০৪ এমবি করে।

ডেটায় অপারেটরটির এমন লাফিয়ে লাফিয়ে চলার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীরা অবশ্য বলছেন , বাংলালিংক অনেক কম দামে বা কখনো কখনো ফ্রিও গ্রাহকদেরকে ডেটা পুশ করছে।বাংলালিংকও সারাসরি এমন মন্তব্য উড়িয়ে দিচ্ছে না। তবে বাজার তৈরিতে তাদের এই কৌশল কাজে লাগছে বলেও মনে করছেন তারা।‘বাংলালিংকের এই ডেটা ব্যবহার বৃদ্ধির পেছনে অফার-প্যাকেজ, স্পেকট্রাম, ডিজিটাল সার্ভিস ও ফোরজির ভূমিকা রয়েছে’- টেকশহরডটকমকে বলছিলেন অপারেটরটির কর্পোরেট কমিউনিকেশন্সের সিনিয়র ম্যানেজার আংকিত সুরেকা।ভিয়নের প্রতিবেদন বলছে, এই প্রান্তিকে বাংলালিংক মোট আয় করেছে ১১’শ কোটি টাকা যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১১’শ সত্তর কোটি টাকা।
সব মিলে ২০১৮ সালের প্রথম নয় মাসে বাংলালিংকের আয় তিন হাজার ২৭০ কোটি টাকা যা আগের বছরের প্রথম নয় মাসে ছিল তিন হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।মোট আয় কমলেও কার্যকর গ্রাহকের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন পেয়েছে অপারেটরটি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে তাদের কার্যকর সংযোগ তিন কোটি ১৪ লাখ থাকলে এ বছর তারা তৃতীয় প্রান্তিক শেষ করেছে তিন কোটি ২৩ লাখ কার্যকর সংযোগ দিয়ে। অবশ্য এর আগে বিভিন্ন সময় এর চেয়েও বেশি সংযোগ বাংলালিংকের নেটওয়ার্কে ছিল।

তথ্য সুত্র: টেকশহর

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates