ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে



ফেসবুকে আমরা নিজেদের গল্পগুলো বন্ধু ও পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে দিই। একই সঙ্গে প্রতিনিয়ত জানতে পারি নতুন নতুন বিষয়। নিয়মিত যোগাযোগ হয় বহু মানুষের সঙ্গে। তবে বাস্তবতা হলো, সবাই আমাদের বন্ধু নয়। অনেকেই আছে যাদের মাধ্যমে ক্ষতি বা বিড়ম্বনায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফেসবুকও তা জানে। ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


নাসির খান
ফেসবুকে নিরাপদ থাকার ক্ষেত্রে কী কী বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি এবং কোন পথ অনুসরণ করলে ক্ষতির আশঙ্কা কমিয়ে আনা যায়, এমন আরও অনেক বিষয় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ফেসবুক সেফটি সেন্টার। এখন বাংলাসহ ১০০টির বেশি ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে এই তথ্যগুলো। আবার এই তথ্যগুলো অনুবাদের কাজে যেকোনো ফেসবুক ব্যবহারকারীই যুক্ত হতে পারেন। ফেসবুক সেফটি সেন্টার পাওয়া যাবে www.facebook.com/safety ঠিকানার ওয়েবসাইটে। এখানে পাওয়া যাবে—

 ব্যবহারের নীতিমালা

ফেসবুকে কেমন তথ্য ভাগাভাগি করা যাবে আর কোন পোস্টগুলো তৈরি করা বা ছড়িয়ে দেওয়া যাবে না, তার একটি নীতিমালা আছে। সবার জন্য এই নীতিমালা সমানভাবে প্রযোজ্য। ফেসবুক নিজে থেকেই এই নীতিমালা অনুযায়ী সব তথ্য যাচাই করে, পাশাপাশি কোনো ব্যবহারকারী চাইল যেকোনো পোস্ট পুনরায় পর্যালোচনার (রিভিউ) জন্য অনুরোধ করতে পারে।

 ফেসবুক ব্যবহার করতে শেখা



ফেসবুক ব্যবহারের জন্য আলাদাভাবে কোনো কোর্স করতে হয় না। তবে নিরাপদ থাকার জন্য কীভাবে ফেসবুক ব্যবহার করা উত্তম, তা জানতে হলে সেফটি সেন্টারের কোর্সগুলো করতে পারেন। যে কেউ বন্ধু তালিকায় যুক্ত হওয়ার অনুরোধ করার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে যোগ না করে প্রথমে তার প্রোফাইল দেখে নিশ্চিত হওয়া জরুরি যে ওই ব্যক্তি আগের পরিচিত কি না। তার পোস্টগুলো দেখলেই জানা যাবে এটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিরই প্রোফাইল নাকি অপর কেউ ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে অনুরোধ পাঠিয়েছে। অচেনা কেউ বন্ধুতালিকায় থেকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং সেই তথ্যগুলো সে কীভাবে ব্যবহার করবে, তা বিড়ম্বনা তৈরি হওয়ার আগে হয়তো জানা যাবে না। এ ধরনের তথ্যগুলো কোর্সগুলোতে আছে।

 প্রাইভেসি চেকআপ

ফেসবুকে কারা যুক্ত আছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এটিও দেখে নেওয়া উচিত যে কাদের সঙ্গে কী কী তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে। প্রোফাইলের ব্যক্তিগত তথ্য, আপলোড করা ছবি, ভিডিও বা পোস্টগুলো কাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নতুন কোনো গেম বা অ্যাপ ব্যবহার করার সময় কী কী তথ্যের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে, এমন সব বিষয় যাচাই ও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে প্রাইভেসি সেটিংস থেকে।

 সিকিউরিটি চেকআপ



একাধিক যন্ত্র থেকে ফেসবুক ব্যবহার করা, বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের সময় ফেসবুক লগ-ইন করা, হঠাৎ নতুন কোনো স্থান থেকে লগ-ইন হওয়া অথবা নিয়মিত লগ-ইন করে ব্যবহারের জন্য কী সেটিং ব্যবহার করা উচিত, সেই বিষয়গুলো যাচাই করা যাবে এখানে। সহজে অনুমান করা যায় না এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার, নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, লগইন অ্যালার্ট এবং দুই ধাপে লগ-ইনের মতো বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যবহার এবং তার গুরুত্ব নিয়েও তথ্য রয়েছে।

 অভিভাবক ও ইয়ুথ পোর্টাল

অভিভাবক হিসেবে নিজে এবং সন্তানেরা কীভাবে নিরাপদে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারে, সেই বিষয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে এই পোর্টালগুলোতে। নবীন অথবা প্রবীণ যেকোনো বয়সের নতুন ব্যবহারকারীই এই তথ্য ও নির্দেশনাগুলো থেকে উপকার পাবেন।

 অপরের সঙ্গে ভালো আচরণ

ক্ষতি হতে পারে এমন ব্যবহারকারীদের থেকে নিরাপদ থাকার অনেক ধরনের উপায় রয়েছে। পাশাপাশি নিজের কোনো কাজ অপরের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। নিজে কীভাবে নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হবেন, বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন, অপর ব্যবহারকারীদের প্রতি সম্মান রেখে নিজে ছবি আপলোড ও পোস্ট তৈরি করবেন, তা জানা থাকতে হবে। মূল পোর্টালের অংশ হিসেবে এই বিষয়গুলো আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

 আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা

ফেসবুক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করে। বাংলাদেশ সরকারও এই বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক। ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইনে কোনো ক্ষতি হলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করা যেতে পারে। প্রচলিত আইন ও নীতিমালার মাধ্যমে তারা এটি সমাধানের চেষ্টা করে থাকে।

ব্যবহারকারীর নিরাপত্তাসংক্রান্ত এসব ধরনের প্রশ্ন ও সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে সেফটি সেন্টার পোর্টাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্য বাতায়ন থেকে। ফেসবুকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য জানা ও প্রয়োজনে সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে সরাসরি ফেসবুকের সহায়তা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। তথ্য সুত্র: প্রথম আলো

 লেখক: সফটওয়্যার প্রকৌশলী 

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates