টাওয়ার শেয়ারিং ব্যবসায় চার কোম্পানিকে বৃহস্পতিবার লাইসেন্স তুলে দিচ্ছে বিটিআরসি।ইডটকো বাংলাদেশ, টিএএসসি সামিট টাওয়ার, আইএসওএন টাওয়ার বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড ও এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড এই লাইসেন্স পাচ্ছে।এদিন বিকাল তিনটায় বিটিআরসির লাইসেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
থাকবেন টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: জহুরুল হক।বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন টেকশহরডটকমকে জানান, যাদের লাইসেন্স দেয়া  হচ্ছে বিটিআরসি তাদের সবাইকে ক্যাপাবল মনে করছে। তারা আশা করছেন রেগুলেশন্স ও গাইডলাইনের অনুয়ায়ী কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম চালাবে। আর লাইসেন্সের শর্ত ভাঙলে তার জন্য ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসি তো রয়েছেই।যে চারটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাচ্ছে তাদের ফি হিসেবে ২৫ কোটি ও বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৫ কোটি টাকা দিতে হবে।

রাখতে হবে ২০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি।প্রতিটি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে ৭০ শতাংশ। লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রথম বছর কোম্পানিটিকে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে।দ্বিতীয় বছর জেলা শহর, তৃতীয় বছর ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ বছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছর দেশের সব উপজেলায় টাওয়ার নিতে হবে।৫ আগস্ট বিটিআরসির এক সভায় এই  চার প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেবার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দিতে জানুয়ারি মাসে গাইডলাইন জারি ও  বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিটিআরসি।এই লাইসেন্স পেতে আটটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল।আট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯১ নম্বর পেয়ে যোগ্যতাক্রমে প্রথম হয় ইডটকো বাংলাদেশ। ৮৮ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে টিএএসসি সামিট টাওয়ার, ৮৫ নম্বর পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আইএসওএন টাওয়ার বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড, এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড ৮২ নম্বর পেয়ে ৪র্থ হয়েছে।

এছাড়া ৮০ নম্বর পেয়ে যমুনা টাওয়ার লিমিটেড পঞ্চম, এফটিএ বাংলাদেশ লিমিটেড ৭৫, বিডি টাওয়ার বিজনেস কো লিমিটেড ৬৯ সপ্তম হয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি অংশীদার না পাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিকমিউকেশন কোম্পানি লিমিটেড -বিটিসিএল কোনো নম্বরই পায়নি।নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের জয়েন্ট ভেঞ্চারের কোনো একটি কোম্পনির নূন্যতম পাঁচ হাজার সাইট পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দেওয়া হলে তখন মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো কোনো নতুন টাওয়ার স্থাপন করতে পারবে না। একই সঙ্গে লাইসেন্স পাওয়া টাওয়ার কোম্পানির কাছে তাদের টাওয়ার বিক্রি করতে পারবে। তবে নিজেরা আর টাওয়ার ভাড়া দিতে পারবে না।নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি অনেক জনবল লাগছে টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষেণ। এ ছাড়া টাওয়ারের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা, ভূমি ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব রয়েছে।

এসব কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টাওয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে নিজেদের সরিয়ে আনছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সেবা নিয়ে থাকে তারা।ফলে একই অবকাঠামো ভাগাভাগির মাধ্যমে তা থেকে সেবা পেতে পারে একাধিক অপারেটর। দেশেও তা অনুসরণ করা হবে এবার।নীতিমালা অনুসারে, লাইসেন্স পাওয়া কোম্পানিকে আয়ের সাড়ে ৫ শতাংশ বিটিআরসির সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হবে। অন্যদিকে ১ শতাংশ দিতে হবে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে।দেশে এখন ৩০ হাজারের বেশি টাওয়ার রয়েছে।

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates