সকল বেকার যুবক থাকবে বেকারমুক্ত হবে?

ছবি সংগৃহীত


ইন্টারনেট সংযোগকৃত কম্পিউটারের পর্দার সামনে বসে কিবোর্ড আর মাউসের ক্লিকেই অতিবাহিত হয় তাদের প্রত্যহ সময়। নয়টা পাঁচটা অফিস নেই। মুক্ত স্বাধীন তবুও ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে নিত্যনতুন ছন্দ খুঁজে চলেন তারা। কম্পিউটারকে ঘিরেই তারা বেছে নিয়েছেন তাদের প্রিয় পেশা। তারা আর কেউ নয়, তারা হলেন মুক্তপেশাজীবী ফ্রিল্যান্সার।

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সাফল্যপূর্ণ এই পেশায় মানুষের আগ্রহ দিনদিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে বেকার তরুণ-তরুণীরা তাদের বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বলে তাদের আগ্রহ একটু বেশিই লক্ষণীয়। দেশের যেকোনো স্থানে বসে সহজেই ফ্রিল্যান্সাররা দূর কোনো শহর বা দেশের গ্রাহকদের জন্য কাজ করতে পারেন।

বাংলাদেশে এই পেশার উদ্যোক্তা ও তাদের দক্ষতা রাড়াতে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অতুলনীয়। ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প থেকে বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বপ্ন জয় করেছন হাজার হাজার বেকার তরুণ-তরুণী। স্বপ্ন পূরণের জন্য কেউ কেউ বিনামূল্যে পেয়েছেন ল্যাপটপও।

জানা যায়, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ১ হাজার ৩২৫ জন প্রশিক্ষাণার্থীর হাতে একটি করে ল্যাপটপ তুলে দিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। গত ১৮ নভেম্বর, আইসিটি টাওয়ারে বিসিসি মিলনায়তনে ‘একটি ল্যাপটপ একটি স্বপ্ন’ স্লোগানে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প ও সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এই ল্যাপটপ তুলে দেয়া হয়। সারাদেশে এজ প্রকল্পের ৬৫০টি ব্যাচের প্রতি ব্যাচে দু’জন প্রশিক্ষণার্থী এবং আটটি বিভাগের ২৫ জন সেরা প্রশিক্ষণার্থীকে ল্যাপটপগুলো তুলে দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

সরকারি প্রকল্প লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং এর প্রশিক্ষণ শেষে ফ্রিল্যান্সিং চালিয়ে যাওয়া একজন তরুণ উপকূলীয় বরগুনা জেলার আবদুল আলীম। তিনিও পেয়েছেন স্বপ্ন জয়ের উপহার ১টি ল্যাপটপ। এ বিষয়ে কথা হলে আবদুল আলিম বলেন, ‘স্বপ্ন দেখতে শুরু করি সেই সময় যখন বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল বরগুনায় বসে শুনতে পাই সরকারের একটি প্রকল্প লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং এর কথা। সেখানে আবেদন করে প্রশিক্ষণের সুযোগও পাই। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে কাজ পেতে থাকি গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপর। আমি চিন্তা করি কিভাবে আমার জেলা শহরকে বেকারত্ব দূর করতে আমি ভূমিকা রাখতে পারি। সেই থেকে আমার আয়ের টাকা দিয়ে কিছু কম্পিউটার কিনে ‘শিখবো কাজ করব জয়, বেকারত্ব আর নয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বরগুনার কলেজ রোড বাগানবাড়ীর মীর ভবনে ‘অনলাইন স্কিলটেক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে আর্থিক অসচ্ছল ছেলেমেয়ের ফ্রি প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করি। তার পাশাপাশি কলেজ পর্যায় করতে থাকি ফ্রি কর্মশালা। যার সবকিছুই সম্ভব হয়েছে ফোরজি গতির ইন্টারনেট ও লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং এর ফ্রি প্রশিক্ষণ বরগুনা জেলায় পেয়ে। এমন ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত, যেখানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সকল বেকার যুবক থাকবে বেকারমুক্ত।’

আবদুল আলিমের ব্যাচ ও প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কথা হয় দশম ব্যাচের একজন প্রশিক্ষণার্থী শাওনের সাথে। শাওন বলেন, অনলাইন স্কিলটেকের মাধ্যমে ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিংসহ এক্সেল অ্যাডভান্স বিনামূল্য প্রশিক্ষণ পেয়েছে অনেকেই। ফ্রিল্যান্সার ডটকম থেকে ইতোমধ্যে তাদের ২০ ডলারের ওপর আয়ও হয়েছে বলেও জানান শাওন।

আবদুল আলিমের কলেজ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী একজন ইয়াসিন আরাফাত। লেখাপড়ার সুবাদে বরিশাল থেকে বরগুনায় আসেন এই কলেজ পড়ুয়া। তিনি বলেন, আগে থেকেই আমি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ জানতাম। কিন্তু কি করে তা থেকে অনলাইনে আয় করা যায় তা জানতাম না। এখন জেনেছি। ফ্রিল্যান্সিং করছি। অস্ট্রেলিয়া থেকে একটি ২০ ডলারের কাজও পেয়েছেন বলে জানান ইয়াসিন আরাফাত। তথ্য সুত্র: রাইজিংবিডি

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates