
টেলিকম খাতের সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার বা এসএমপি রেগুলেশনে আটকে যাচ্ছে গ্রামীণফোন।ফলে অপারেটরটিকে নতুন গ্রাহক নেয়া বন্ধ তো করতেই হবে উল্টো পুরোনো গ্রাহকদের কমাতে হতে পারে। সম্প্রতি এসএমপি রেগুলেশন অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আর শিগগির এটি কার্যকরের ঘোষণা আসছে।দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এই রেগুলেশন হলো বাংলাদেশে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, এসএমপি যদি আরও ৫ বছর আগে করা যেতো তাহলে দেশে কোনো মনস্টার তৈরি হতো না। এটা হয়েছে কারণ আমাদের এসএমপি নীতিমালা ছিল না। আমাদের যে কম্পিটিটিভ অ্যাক্ট আছে সেটিও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি।‘মুক্তবাজার অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তির নাম হচ্ছে মনোপলি ভাঙ্গা। এসএমপি রেগুলেশন ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়ে বিটিআরসিকে দেয়া হয়েছে। এখন গেজেট করে কার্যকরের জন্য প্রকাশের অপেক্ষায়।’ বলছিলেন মন্ত্রী।
আর এটি যেন দ্রুত কার্যকর করা যায় সেজন্য আইনমন্ত্রীর সঙ্গে এগুলোর ফলো আপ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো হয়ে যাবে। গেজেট হওয়ার ক্ষেত্রে এখানে আর কোনো সমস্যা নেই।মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাজারে অপারেটরগুলো গ্রাহকসহ যেকোনো ক্ষেত্রে রেগুলেশনে দেয়া সীমা পেরিয়ে গেলে অবশ্যই তা সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে।এসএমপি রেগুলেশন ঘোষণার পর শর্ত অনুয়ায়ী কে এসএমপিতে পড়ছে আর কে পড়ছে না তা ঘোষণা করবে বিটিআরসি। আর এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট অপারেটরের প্রতি তখন কার্যকর হবে।
নতুন রেগুলেশন অনুযায়ী বাজারে একটি অপারেটরকে এসএমপি ঘোষণায় তার গ্রাহক বা সাবস্ক্রাইবার, স্পেকট্রাম এবং রেভিনিউয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হবে।সে হিসেবে স্পেকট্রাম ছাড়া গ্রাহক এবং লভ্যাংশের শর্তে আটকা পড়ে যায় জিপি।রেগুলেশন অনুয়ায়ী বাজারের মোট গ্রাহকের ৪০ শতাংশের বেশি কোনো অপারেটরের থাকা যাবে না। এখানে গ্রামীণফোনের ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ গ্রাহক। রবির ৩০ শতাংশ, বাংলালিংকের ২২ শতাংশ এবং টেলিটকের আড়াই শতাংশ।আর টেলিকম অপারেটরগুলোর মোট আয়ের ৫১ শতাংশের বেশি জিপির একারই। এই হিসাব ২০১৭-১৮ সময়ের, যা পরবর্তী সময়েও এখনকার এসএমপি রেগুলেশনের শর্তসীমার বাইরে পড়ার মতো হেরফের হয়নি। যেখানে গ্রাহক সংখ্যায় জিপির পরে থাকা রবির শেয়ার ২৮ শতাংশের মতো।

এসএমপি ঘোষিত হলে গ্রামীণফোন আর নতুন সিম বিক্রি করতে পারবে না। এখন বাজারে মোট গ্রাহক আছে সাড়ে ১৫ কোটি। আর জিপির হাতে তার ৭ কোটি ১১ লাখই। শতাংশে তা ৪৫ দশমিক ৮ এর মতো।এছাড়া ব্যবসায় লাগাম টানতে কিছু কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে পারে অপারেটরটি। এর মধ্যে যেমন তার কোয়ালিটি অব সার্ভিস মানদণ্ড আরও কঠিন করা হতে পারে। কলড্রপের অন্য অপারেটরের চেয়ে আরও কম আরোপ করা হতে পারে। কল সাকসেস রেট শতভাগ করা, কলরেট ও সেবার দাম বাড়িয়ে দিতে বলাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হতে পারে। এসবের পুরোটাই নির্ভর করবে বিটিআরসি কেমন নির্দেশনা দেয় তার উপর।গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন সৈয়দ তালাত কামাল টেকশহরডটকমকে বলেন, যেহেতু এসএমপি ডিজিটাল বাংলাদেশের ইকোসিস্টেমে প্রভাব ফেলবে তাই যে খাতে এই রেগুলেশন দেয়া হচ্ছে সে খাতের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার পর নীতিমালা করা হবে বলে আশাকরছি।‘বিটিআরসি এখানে পদ্ধতিগত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নিতে পারে যেখানে শেষ পর্যন্ত যেন গ্রাহক উপকৃত হয়’। উল্লেখ করেন তালাত।মূলত উন্নত বিশ্বে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্যে এসএমপি চালু করা হয়। ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে এসএমপি চালু রয়েছে।
তথ্য সুত্র: টেকশহর
Post a Comment