ভুয়া রাজনৈতিক খবর ছড়ানোয় অ্যাকাউন্ট বাতিল করছে ফেসবুক



রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে শত শত ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করছে মার্কিনরা। এর আগে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে রাশিয়া থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবার যুক্তরাষ্ট্রেই এ ধরনের ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ৫৫৯টি পেজ ও ২৫১টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে যৌথভাবে নানা প্রচার চালানো হচ্ছিল। এসব অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারী মার্কিন নাগরিক এবং ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়কার মতো এখান থেকে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক ব্লগ পোস্টে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলেছে, ক্ষতিকর ফেসবুক ব্যবহারকারীরা শত শত ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজ তৈরি করে ব্যবহারকারীদের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের ভুয়া পেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব পেজ ফেসবুকের নীতিমালা ও বারবার ভেঙেছে এবং অনৈতিক আচরণ করছেন।

ফেসবুক অবশ্য ওই অ্যাকাউন্টগুলোর উৎসের কথা জানায়নি। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৈরি।

ফেসবুকের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান নাথানিয়েল গ্লেইসার বলেন, অনেকেই ভুয়া ও একাধিক অ্যাকাউন্ট একই নাম দিয়ে খুলেছেন এবং সেখান থেকে প্রচুর ভুয়া তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে। অনেকে এসব পোস্ট জনপ্রিয় করার নানা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিছু বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান ফেসবুক ব্যবহার করে এসব তথ্য এমনভাবে তুলে ধরছে, যাতে মানুষ ভুলপথে যাচ্ছে।

ফেসবুক বলছে, তারা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ক্ষেত্রে কনটেন্ট যাচাই করেনি। তারা অ্যাকাউন্টের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তারপর তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফেসবুকের কর্মকর্তা গ্লেইসার বলেন, এখন অনেকেই ফেসবুক ব্যবহার করে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক কনটেন্ট ব্যবহার করেন, যাতে দর্শককে তাঁদের সাইটে টেনে নিতে পারেন এবং অর্থ আয় করতে পারেন। যেসব খবর বা মতামত প্রকাশ করা হয়, সেগুলো প্রকৃত বিতর্কের চেয়ে সহজে পৃথক করা যায় না। তাই ওই অ্যাকাউন্ট বা পেজ পরিচালনাকারীর আচরণ খেয়াল করাটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তাঁরা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন কি না বা স্প্যামিং করছেন কি না, তা যাচাই করে অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ মুছে দেওয়া হয়।

অনেকে ফেসবুকের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলছেন, অনেক আগেই ফেসবুকের এ ধরনের সিদ্ধান্তে আসা উচিত ছিল। নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়া লোক দেখানো।

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Ak kotha (এক কথা). Designed by OddThemes | Free Blogger Templates