
বিশ্বজুড়ে রব উঠেছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের। এই বিপ্লবে সামিল হতে প্রতিটি দেশ জোর দিচ্ছে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তিতে। জোর দিচ্ছে রোবটিক্সে।কারখানায় যেন সহজেই রোবট ব্যবহার করে আরও সুক্ষ্ম ও মানুষের পক্ষে কঠিন বা সম্ভব নয় এমন সব কাজ করা যায় তা নিয়ে চলছে বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ঠিক এমন সময়ই চীনের এবিবি গ্রুপ ঘোষণা দিয়েছে, তারা রোবট দিয়েই রোবট তৈরি করতে চায়। এজন্য দেশটির সাংহাই শহরে ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে একটি রোবট তৈরির কারখানা করতে যাচ্ছে এবিবি।
এবিবির লক্ষ্য, নিজেদের কারখানায় তৈরি করা এসব রোবট এশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি করা।সেই লক্ষ্য নিয়েই এবিবি সাংহাইয়ের চাইনা রোবটিক্স ক্যাম্পাসের পাশে ওই কারখানা তৈরির প্রকল্প ঘোষণা দিয়েছে। যেখানে ২০২০ সালের শেষে দিক থেকেই পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদন শুরু হবে।এবিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলরিচ স্পিসশোফার এক বিবৃতিতে জানান, সাংহাই অ্যাডভান্সড প্রযুক্তির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সে জন্যই এমন স্থান নির্বাচন করা।
দিন দিন কর্মক্ষেত্রে মানুষের মজুরি বাড়ছে। অন্যদিকে রোবটের ব্যবহারে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় চীন অন্য যেকোন স্বল্প আয়ের দেশের তৈরি পণ্যের সঙ্গেও নিজেদের পণ্য দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারছে।২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী যে পরিমাণ রোবট বিক্রি হয়েছে, তার তিনটির মধ্যে একটি চীনের। গত বছরে অন্তত এক লাখ ৩৮ হাজার রোবট রপ্তানি করেছে চীন।
এবিবি যে রোবট তৈরির কারখানা করতে যাচ্ছে সেটি হবে ৭৫ হাজার বর্গফুটের। যেখানে পুরোটা নিয়ন্ত্রণ হবে সফটওয়্যারের সাহায্যে। সেখানে মানুষ এবং রোবট পাশাপাশি কাজ করলেও তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি থাকবে সবার আগে।মানুষের পাশাপাশি রোবট রাখার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, একেবারে সুক্ষ্ম যন্ত্রপাতি নিখুঁতভাবে তৈরি করার সক্ষমতা রয়েছে রোবটের।এবিবি তাদের বেশিকিছু কারখানায় প্রায় দুই হাজার রোবট ব্যবহার করছে। যার মধ্যে রয়েছে, গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরি, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের সংযোজনসহ কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ।তবে প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই বলছে, রোবট মানুষের জায়গা দখল নেবে না। বরং নতুন করে আরও কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
Post a Comment